অসম পঞ্চায়েত ভোট: ঘোলা জলে মাছ পেল না তৃণমূল, স্বস্তিতে বাঙালি সমাজ

0
1

রানার প্রতিবেদন : অসমে যে দলের অস্তিত্ব প্রায় শেষ, সেই আলফা এখন অসমীয়া জনমানসে ভেসে ওঠার জন্য হাতিয়ার করেছে বাঙালি বিদ্বেষ। আর হাতিয়ার করে অসমে রাজনৈতিক শেকড় ছড়াবার চেষ্টা করেছিল তৃণমূল।কিন্তু সেই চেষ্টা ভেঙে পড়ল তাসের ঘরের মতো। পঞ্চায়েত ভোট দেখিয়ে দিল অসমের বাঙালিরা তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য তৃণমূলের হাত ধরার পপক্ষপাতি নন।গোল বেঁধেছে নাগরিকত্ব বিল নিয়ে। যে বিলের পক্ষে বাংলার বিজেপি, সেই বিল অসমের বিজেপির জন্য ঘাতক হতে চলেছে। এই বিলকে হাতিয়ার করে নতুন করে মাথা চাড়া Dইচ্ছে আলফা। জাতীয় নাগরিক বিল পাশ হলে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু বাঙালিরা মাথা উঁচু করে থাকতে পারবে ভারতে। ফলে অসমের হিন্দু বাঙালিরাও পাবে যোগ্য নাগরিক মর্যাদা। একারণে বাংলাদেশে অত্যাচারিত হিন্দু বাঙালিদের মধ্যে ভারতে চলে আসার প্রবণতা তৈরি হবে এবং অসমে বাঙালি হিন্দু শরণার্থীর সংখ্যা বাড়বে। এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে অসমীয়া সমাজের একাংশে। আর এই আশংকাকেই পুঁজি করে অসমীয়া জনসমাজে নতুন করে ভেসে ওঠার পরিকল্পনা নিয়েছে আলফা।আলফার এই ঘৃন্য কৌশলের কারণেই প্রাণ দিতে হলো তিনসুকিয়ার পাঁচ বাঙালিকে। সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আলফা সমালোচনার জেরে ঘটনার দায় নিতে সাহস পায়নি। অসমীয়া সমাজও এই ঘৃন্য চক্রান্তকে সর্মথন করছে না। বাঙালিরা চাইছে এনিয়ে অসমীয়া-বাঙালি বিবাদ যেন তৈরি না হয়। কারন, আলফাকে এই ঘৃন্য কাজ থেকে দূরে রাখতে হলে অসমের বাঙালিদের পাশে অসমীয়া সমাজকেই দাঁড়াতে হবে। এই সময় বাঙালি-অসমীয়া বিবাদ তৈরি হলে যার ফায়দা নেবে আলফা এবং নতুন উৎসাহে বাঙালি হত্যালীলায় মেতে উঠবে তারা। এটাই আশঙ্কা করছে অসমের বাঙালিরা। তাদের এই আশঙ্কাকে উস্কে দিয়েছে এই রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলি। বিশেষ করে তৃনমূল কংগ্রেস। সিপিএম , কংগ্রেস প্রতিবাদী মিছিল করে ক্ষান্ত দিলেও তৃনমূল আবার প্রতিনিধি দল পাঠানো এবং ভোটে সুযোগ নেবার কৌশলও প্রয়োগ করেছে। বিজেপির অভিযোগ , এরপর আলফা আরো নৃশংস হলে সেই জঙ্গিদের হাত থেকে বাঙালিদের রক্ষা করতে বুক পেতে দাঁড়াবেন তো ডেরেক,মহুয়ারা?? অসমীয়া সমাজ এই নারকীয় পরিস্থিতি থেকে যখন বেরিয়ে আসতে চাইছে তখন তাদের যাবতীয় সদিচ্ছা আর উদ্যোগকে যেন ব্যাংগ করতেই তিনসুকিয়া ছুটে গিয়েছিলেন ডেরেক বাহিনী ।

অসমে আলফার সঙ্গে দূর দুরান্তে কোনও যোগাযোগ নেই বিজেপির। দিল্লিতে বাজপেয়ী সরকার থাকার সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলেই আলফার কোমর ভেঙে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলাদেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আলফার কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়েছিলেন প্রয়াত বাজপেয়ী। সেই আলফাকেই এখন বাঁচিয়ে তোলার রসদ সরবরাহ হচ্ছে পঁচিমবঙ্গের মাটি থেকে, অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির।

130Shares