বসিরহাটে পুলিশের উপর ঢিল মেরেছে তৃণমূল? উঠে এলো তথ্য

basirhat

সব সংবাদ : সোমবার বসিরহাটে আইন অমান্য করতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬১ জন বিজেপি কর্মী। পুলিশের হাতে মার খেয়ে আহত হয়েছেন ৩ জন মহিলাসহ অনেক বিজেপি কর্মী, যারা এখনো বসিরহাট মহাকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৬১ জনের মধ্যে ৯ জন জেলা ও রাজ্য পদাধিকারী এবং ৫২ জন বিজেপি কর্মী। যাদের অনেকের নামে দেওয়া হয়েছে জামিন অযোগ্য ধারার মামলা। কারো কারো নামে সর্বাধিক ১৭ টি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন : রথ যাত্রার পরিবর্তে আইন অমান্য? বিজেপির নয়া কৌশল কি?

কিন্তু এমন পরিস্থিতি হল কেন? বিজেপি নেতাদের কথায়, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করে পুলিশের দিকে এগোচ্ছিলাম। পুলিশের দিকে পাথর ছোঁড়ার আমাদের কর্মীদের কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মিছিল শুরু হওয়ার আগে জনসভাতেও পুলিশের দিকে কোনভাবে আক্রমণাত্মক না হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলাম। বিজেপি কর্মীরা শৃঙ্খলাপরায়ণ। এক হাজারেরও বেশি বিজেপি কর্মী এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিলেন কেউ কেউ বাড়ি থেকে ছোট বাচ্চা সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন মিছিলে। যদি পাথর ছোড়ার পরিকল্পনা থাকতো তাহলে ৫-৬ টি পাথর কেন? হাজার হাজার পাথর পড়তো পুলিশের দিকে। পুলিশের লাঠিচার্জের পরেও পাথর ছোড়া বন্ধ হতো না। কিন্তু দেখা গেছে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করাতেই নিরীহ বিজেপি কর্মীরা ছুটে পালিয়েছে।

ভিডিও দেখুন : বিজেপি-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্র বসিরহাট

প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ বিজেপির মিছিলে কাউকে পাথর নিয়ে হাটতে দেখেনি। কেউ বলছেন যারা পাথর ছুঁড়েছিলো তাদের কোনো বিজেপি কর্মী হিসাবে চিনি না। কেউ আবার বলছেন পাথর এসেছিলো মিছিলের পাশের থেকে। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানান, পুলিশের দিকে যে পাথর ছোঁড়া হয়েছে সেটি বিজেপি কর্মীদের ছোড়া নয়। বিজেপিকে বদনাম করতে তৃণমূলরাই আমাদের মিছিলে ঢুকে পুলিশকে পাথর ছুড়েছে। এটা তৃণমূল ও পুলিশের ষড়যন্ত্র।

আরও পড়ুন : মমতা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ,আদালতে মাদার ডেয়ারি মামলা

বিজেপির রথযাত্রা কর্মসূচিকে অনুমোদন দেয়নি রাজ্য প্রশাসন। কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছিল যে একমাস ধরে রথযাত্রা চললে পুলিশ প্রশাসনের তা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ শুধু বিজেপির উপর লাঠিচার্জ করে নিরীহ বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করতে পারে। গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে না। শান্তিপূর্ণ বিজেপিকর্মীদের মারতে পুলিশ যতটা সক্রিয় হয়েছে এই রকম সক্রিয় যদি তৃণমূলের গুন্ডাদের উপর হতো তাহলে রাজ্যে গণতন্ত্র অনেকটা রক্ষা পেত। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় পুলিশ দর্শকের ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু রাস্তায় বসে থাকা বিজেপি কর্মীদের মারতে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল।