কবে, কোথায় হবে রাম মন্দির? সাহসী পদক্ষেপ বিজেপির

নিজস্ব সংবাদ, দিল্লী : বিজেপির জন্মলগ্ন থেকে একটাই ইস্যু, রামমন্দির। যে রামমন্দিরকে ইস্যু করে বিজেপি ১৯৯৯ সালে একবার ক্ষমতায় এসেছিলো। অটল বিহারী বাজপেয়ির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ছিল ২০০৮ সাল পর্যন্ত। অটল বিহারী বাজপেয়ির কাজ ও শাসন মানুষকে মুগ্ধ করেছিল। বিশ্বব্যাংকের বিপুল পরিমানে ঋণ শোধ করেও সরকার কার্গিল যুদ্ধের মতো বড় যুদ্ধেও অর্থনীতিকে ঠিক রেখে উন্নয়ন করেছিল সারা দেশ জুড়ে। অটল বিহারী বাজপেয়ীর সোনালী চতুর্ভূজ, অন্নদার মতো খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেয় নি। কিন্তু ২০০৪ সালে সেই অটল বিহারী সরকারের পতন ঘটলো কি করে এখনও মানুষের মুখে সেই আলোচনা শোনা যায়।

আরও পড়ুন : আমরা ভিক্ষা চাইছি না, রাম মন্দির নিয়ে আইন আনুক সরকার

প্রধানমন্ত্রী হিসাবে অটল বিহারী বাজপেয়ী এখনও সারা দেশের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু সেই অটল বিহারী বাজপেয়ী কেন মানুষের প্রতিফলন ভোটবাক্সে পেল না। এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে অভিজ্ঞ রাজনীতিকরা উত্তর দেন – “রামমন্দির”। রামমন্দির ইস্যুই পতন ঘটিয়েছে এই সরকারের। রামমন্দির মানেই হিন্দুত্ব , আর ভারতবর্ষের সিংহভাগ মানুষই হিন্দু। আর এই হিন্দুর প্রধান আবেগ রামমন্দির। অটল বিহারী বাজপেয়ির সরকার পাঁচ বছর হাতে সময় পেয়েও মানুষের আবেগ পুরান করতে পারে। শাইনিং ইন্ডিয়া স্লোগানে ২০০৪ সালের নির্বাচনের তরী পার করতে গিয়ে তরী ডুবিয়েছে মাঝ দরিয়ায়। উন্নয়নের স্লোগান মানুষ সেবার শুনতে চাই নি। চেয়েছিলো আবেগের প্রতিদান।

আরও পড়ুন : “রাম মন্দির ইস্যুতে আমাদের হুমকি দেওয়া মাসুদ আজহারকে পাকিস্থানে ঢুকে শেষ করবো”: যোগী আদিত্যানাথ।

বিজেপির সেই ভুলের মাশুল গুনতে হয়েছে দীর্ঘ দশ বাঁচার ধরে , এই দশ বছরে গঙ্গা দিয়ে কত জল বয়ে গেছে কিন্তু পিছু ছাড়েনি সেই হিন্দুত্বের আবেগ। ২০১৩ সালের কুম্ভমেলার সারাদেশের সন্ন্যাসীরা একত্রিত হয়ে যে স্লোগান দিয়েছিলো তা এখনো মনে আছে হিন্দু সমাজের। ”মোদী লাইয়ে রামমন্দির বানাইয়ে ” স্লোগানে বিজেপিকে ভাবতে হয়েছিল দেশের মানুষের প্রধান আবেগকে। ২০১৩ সালে বিজেপির নিজস্ব অনেক বাঁধা কাটিয়ে মোদির নাম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করতে দেশে মোদী ঝড় আছড়ে পড়েছিল। সে ঝড় যেন বিজেপির একার নয়, সমগ্র হিন্দু সমাজের। ৩২ বছর পরে মানুষ আবার কোনো নেতাকে দেখে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার উপহার দিলেন।

আরও পড়ুন : কাশ্মীরের সবথেকে উঁচুতে ভারতীয় পতাকা

রামমন্দির অযোধ্যায় , অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশে। সেখানেও সমাজবাদী সরকারকে সরিয়ে দিয়ে উত্তরপ্রদেশের মানুষ বিজেপি কে এক তৃতীয়াংশ আসন দিয়ে সরকার বানিয়ে বুঝিয়ে দিলেন কুচ কম নেহি হে , আভি আভি রামমন্দির বানাইয়ে। কিন্তু রামমন্দির ইস্যু ততক্ষণে চলে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। যে মামলা এখনো মহামান্য সর্বোচ্চ আদালতের বিচারাধীন। মোদী সরকারের চার বছর শেষ ২৮২ থেকে আসন এসেছে ২৭২ , উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকার তিনটি লোকসভা আসন খুইয়েছেন। এবারের ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচনী মেনুফেস্টোতে যদি রামই না থাকেন , তাহলে উন্নয়ন কি করে থাকে ? হ্যা , ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন রাম ছাড়া হবে কি না জানি না ? তবে উন্নয়নই হবে মোদী সরকারের হাতিয়ার, নির্বাচনের মেনুফেস্টোতে নেই রামমন্দিরের উল্লেখ। ভারতীয় জনতা পার্টি এখন পড়েছে উভয় সংকটে , রামমন্দিরকে ইস্যু করে নির্বাচন করলে বিজেপি হলো সাম্প্রদায়িক।

আরও পড়ুন : “ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা উচিত ছিল, কিন্তু হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষ দেশ”- মেঘালয় হাইকোর্ট।

রামমন্দিরকে বাদ দিলে সেই বিরোধীরাই আনছে সেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অভিযোগ। বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র জানিয়েছে রামমন্দির হবে এবং বিজেপি সরকারের সময়কালেই হবে , কারণ ২০১৯ সালে আবার বিজেপি সরকার গঠন করবে। কোনো শক্তি ভারতীয় আবেগ রামকে অস্বীকার করে রামমন্দির আটকাতে পারবে না। কিন্তু দেখার বিষয় , যেভাবে বিরোধীশক্তি একত্রিত হয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছে , সেখানে রামকে ছাড়া বিজেপির পুনারায় সাকার গঠন করে রামমন্দির বানাতে পারে কিনা। বিজেপির এই সাহসী পদক্ষেপে ২০১৯ সালে কতটা সফল হয় নাকি রামমন্দির বানানোর দিন নির্বাচনের আগেই ঘোষণা হয়।

1601Shares