সমীক্ষা: বসিরহাট লোকসভা জয়ের কাছাকাছি বিজেপি

loksobha election বসিরহাট

সবসংবাদ: উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পাঁচটি লোকসভা আসন বারাকপুর, বারাসাত, দমদম, বনগাঁ ও বসিরহাট। বনগাঁ ও বসিরহাট লোকসভা আসন দুটির সিংহভাগ বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে পাঁচটি লোকসভা আসনেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বামেরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিল বিজেপি। আগামী লোকসভা নির্বাচন আগের সমীকরণ অনেকটা বদলে দিতে পারে। ২০১৪ সালের পর থেকে রাজ্যে বহু সমীকরণ বদল হয়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচেন ও বিভিন্ন কেন্দ্র উপনির্বাচনে বামেদের পিছনে ফেলে রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসাবে উঠে এসেছে বিজেপি। এবারের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ২২+ আসনের লক্ষ্য নিয়ে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপি। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, বসিরহাট নেই ‘লক্ষ্য ২২+’ এর মধ্যে। কিন্তু সমীক্ষায় ইঙ্গিত দিচ্ছে অন্যরকম।

সম্প্রতি ‘সবসংবাদ’‘ওপিনিয়ন পোল ২০১৯’ এর যৌথ উদ্যোগে ৩২৫৮ জন ভোটারের মধ্যে করা এই সমীক্ষা বলছে জয়ের কাছাকাছি আছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

গত লোকসভা নির্বাচনে ফলাফল:

তৃণমূল- ইদ্রিস আলী – ৪৯২,৩২৬ (৩৮.৬৫) -৭.৫৫
সিপিআই – নুরুল হোদা – ৩৮২,৬৬৭ (৩০.০৪) -১০.৩৪
বিজেপি – শমীক ভট্টাচার্য – ২৩৩,৮৮৭ (১৮.৩৬) +১১.৮১
কংগ্রেস – আব্দুর রহমান কাজী – ১০২,১৩৭ (৮.০২) +০
এ আই ইউ ডি এফ – সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী – ২৫,১৭৩ (১.৯৭) -২.০১

২০১৯ সালের জানুয়ারী মাসের সমীক্ষা :

তৃণমূল পেতে পারে ৩৯.৭২ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ গত লোকসভা নির্বাচনের থেকে প্রায় এক শতাংশ ভোট বাড়তে পারে তৃণমূলের।
বিজেপি পেতে পারে ৩৬.৩৪ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ গত লোকসভার নির্বাচনের থেকে দ্বিগুন ভোট বেশি পেতে পারে বিজেপি।
সিপিআই পেতে পারে ১৬.৮৩ শতাংশ ভোট। গতবারের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম।
কংগ্রেস পেতে পারে ৫.২৫ শতাংশ ভোট। গতবারের থেকে ৩ শতাংশ ভোট হ্রাস পেতে পারে সমীক্ষায় ইঙ্গিত।

মোট ভোটারের ৯৮.১৪ শতাংশ ভোট পেতে পারে এই চারটি দল

সমীক্ষায় আরও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সংসদ ইদ্রিস আলীর পরিবর্তে দীপেন্দু বিশ্বাসকে লোকসভার তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে চাইছে। অন্যদিকে পদ্ম প্রতীকে শমীক ভট্টাচার্যের পরিবর্তে ষ্টার প্রার্থী হিসাবে নতুন মুখ চাইছে ভোটাররা। তাছাড়া বাম-কংগ্রেস জোটে এবার নির্বাচনে প্রতিদন্দ্বিতা করলে জোটের ভোট ৭ শতাংশ বাড়তে পারে বলে সমীক্ষায় আলাদাভাবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন যে কোনো দলের কাছে সহজ হবে না তা সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

এই সমীক্ষাটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে করা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দলের বা কোনো ব্যক্তি বিশেষের সুবিধা বা অসুবিধা করা এই সমীক্ষার লক্ষ্য নয়।

7576Shares