আবার কোর্টে সারদাকাণ্ড, CBI -এর জালে চিদম্বরম

sarada

সব সংবাদ : সারদাকাণ্ড নিয়ে একটা সময়ে বেশ উত্তাল হয়েছিল রাজ্য। বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হয়েছিল, পরের তাঁদের অনেকেই ছাড়াও পেয়ে যায়। তবে সুদীপ্ত সেন সহ কয়েকজন এখনও জেলে। সারদার সাথে আরও কয়েকটি চিটফান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়তে থাকে। একাধিক সূত্র থেকে জানা যায় বাজার থেকে প্রচুর পরিমান টাকা তুলেছে এই সংস্থা গুলি। পরে ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দেওয়া হয় চার্জশিট। এই চার্জশিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত পাঁচ বছর ধরে এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে CBI।

সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে গতশুক্রবার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি.চিদম্বরমের স্ত্রী নলিনী চিদম্বরমের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল CBI। নলিনীর বিরুদ্ধে সারদার কর্তা সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

সারদাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর CBI আধিকারিকরা জানতে পারেন, সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন নলিনী চিদম্বরম। বেশ কয়েকবার তাঁদের মধ্যে বৈঠকও হয়। এই ঘটনায় তাঁকে কয়েকদফায় জেরাও করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা। নলিনী সেই সময় এ সংক্রান্ত বক্তব্যের সত্যতা স্বীকার করেনি। তাই এবার তাঁর নামে চার্জশিট পেশ করল CBI।

এই চার্জশিটে বলা হয়েছে, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মাতঙ্গ সিং-এর স্ত্রী মনোরঞ্জনা সিং-এর সঙ্গে অনেক আগে থেকেই পরিচয় ছিল নলিনী চিদম্বরমের। মনোরঞ্জনাদেবীই সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে চিদম্বরমের স্ত্রীর পরিচয় করিয়ে দেন। সারদার টাকা তোলার উপর SEBI যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তা নিয়ে সারদাকর্তার সঙ্গে তাঁর কথাও হয়। এই সমস্যা কীভাবে মিটিয়ে নেওয়া যায়, তার চেষ্টা করছিলেন সুদীপ্ত সেন। নলিনী চিদম্বরম SEBI, ROC সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ম্যানেজ করে দেবেন বলে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দফায় দফায় টাকা নেন।

তদন্তকারী সংস্থার তরফে আরও বলা হয়েছে, সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর স্ত্রী এবং আরও কয়েকজন ষড়যন্ত্র করে সারদার টাকা নয়ছয় করেছেন। নলিনীদেবী তদন্তকারী সংস্থাকে জানিয়েছিলেন, এই টাকা তিনি তাঁর পারিশ্রমিক হিসেবে নিয়েছিলেন। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ম্যানেজ করে দেওয়ার কথাই তিনি বলেননি।

চার্জশিটে CBI জানিয়েছে, যে টাকা নলিনীদেবীকে দেওয়া হয়েছিল, তা আমানতকারীদের গচ্ছিত রাখা অর্থ। সারদায় প্রতারিত হওয়া আমানতকারীদের অর্থই দেওয়া হয়েছে নলিনীদেবীর কোম্পানিকে। এভাবে টাকা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। চার্জশিট জমা পড়ার পর রাত পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে নলিনীদেবীর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

923Shares