মতুয়াদের স্বার্থে তৃণমূলের কাছে হেরে পথ বয়লেন শান্তনু ঠাকুর ?

shantanu-thakur

সবসংবাদ: বিজেপির সভা নয় ঠাকুরনগরে প্রধানমন্ত্রীকে এনে সভা করতে চাইছে সর্ব ভারতীয় মতুয়া সম্প্রদায়ের সভাধিপতি সান্তনু ঠাকুর। শান্তনু ঠাকুর প্রাক্তন তৃণমূলের মন্ত্রী মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছোট ছেলে।

আরওভিডিও:মহিলার ওড়না ধরে টান দিলেন কর্ণাটকের কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী

পরিবার ভাগ হয় লোকসভার টিকিট নিয়ে

২০১৫ সালে বনগাঁ লোকসভার উপ নির্বাচনের টিকিট নিয়ে পরিবারের মধ্যে অন্তর্দন্দ্ব তৈরি হয়। টিকিট না পেয়ে মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর তৃণমূলের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বড় ছেলে সুব্রত ঠাকুর বিজেপির প্রার্থী হয়। সেই থেকে পরিবার ভাগ হয়ে যায় রাজনৈতিক ভিত্তিতে। সুব্রত ঠাকুর নির্বাচনে হেরে অস্ট্রিয়াতে চলে যান। মতুয়া মহাসংঘের সঙ্ঘাধিপতি হন সান্তনু ঠাকুর। কিন্তু তৃণমূলের সংসদ তথা বড়মার বড় বৌমা মমতাবালা ঠাকুর নিজেকে সঙ্ঘাধিপতি হিসাবে পরিচয় দেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে সান্তনু ঠাকুর বলেন মহিলারা কখনো সঙ্ঘাধিপতি হয় না। মহিলারা হলে বড়মাই সঙ্ঘাধিপতি হতেন। তিনি এই কারণেই সঙ্ঘাধিপতি। তাই মমতাবালা ঠাকুর সঙ্ঘাধিপতি নন।

আরও পড়ুন: সারা ফেব্রুয়ারী মাস মোদির লক্ষ্য থাকবে বাংলা, ২০০ সভা বিজেপির

প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে আটকাতে তৃণমূলের সংসদ মমতাবালা ঠাকুর ঠাকুরবাড়ির মেলার মাঠে কৃত্তন করার নাম আগে থেকে আবেদন করে রেখেছে। যাতে প্রধানমন্ত্রী এসে ওখানে জোর করে সভা করলে মতুয়াদের মধ্যে অন্ন্যারাকম বার্তা দেওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী চাইলে সভা করতে পারে

প্রধানমন্ত্রী চাইলে, কৃত্তন গান বাতিল করে সভা করতে পারত। কিন্তু সেই বিতর্কিত পথে হাটতে রাজি নন শান্তনু ঠাকুর। তিনি বুদ্ধিমানের সাথে নরেন্দ্র মোদির সভাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, তৃণমূলের এই পরিকল্পনা মানুষের সামনে আসুক। কেন না কৃত্তন দুদিন পরে করা যেত। কৃত্তন করার নামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা আটকানো আখেরে মতুয়াদের কিছু স্বার্থ থেকে বঞ্চিত করা। এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রী এইভাবে ঠাকুরবাড়িতে আসে নি। একমাত্র নরেন্দ্রমোদির সরকার কেন্দ্রে নাগরিকত্ব বিলে মতুয়াদের স্বার্থ উল্লেখ করছেন।
শান্তনু ঠাকুর নরম হয়ে বোঝাতে চাইছেন যে তৃণমূলের গাইগরুর লাঙল আগে যাক। আর ষাঁড়ের লাঙল না হয় পরে যাবে। অর্থাৎ যেটার প্রয়োজন নেই সেটা বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে যারা তাদেরকে আগে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন: বিজেপিতে যোগ দিলেন আরও এক বলিউড নায়িকা

তিনি বুঝেছেন বিতর্কে না গিয়ে মতুয়াদের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর ঠাকুরনগর আসাটা জরুরি তাই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মতুয়াদের স্বার্থে তৃণমূলের কাছে হেরে পথ বয়লেন শান্তনু ঠাকুর। কিন্তু কয়েকঘণ্টার মধ্যে পিছু হটেন তিনি। ঠাকুরবাড়ির মেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রীর সভা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর । তার বদলে যেখানে প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার কথা ছিল, সেখানেই হবে সভা। তিনি বলেন, “ওরা মেলার মাঠে সভা করাতে যখন আপত্তি জানাচ্ছে, তখন আমরা ছেড়ে দিলাম। আমরা দেখতে চাই প্রধানমন্ত্রীর সভায় বেশি লোক হয়, না ওই সভায় বেশি লোক হয়। আমাদের কাছে এটা একটা চ্যালেঞ্জ।

1385Shares