এতজন প্রধানমন্ত্রীর একমঞ্চে জায়গা হবে তো ?

brigade

বৃন্দাবন : “সবে মিলে করি কাজ, হারি-জিতি নাই লাজ”, -উক্তিটি কার জানি না, কিন্তু যিনি বলেছিলেন তিনি খুব বিচক্ষণ লোক ছিলেন। রাজনীতিতে হার জিৎ থাকে, তবে এটা তো আর মেলার মাঠের জুয়া নয় যে হারের কারণে নিজের পকেটের পয়সা চলে যাবে। পয়সা সাধারন মানুষের, পরিশ্রমও সাধারন মানুষের। শুধু জিতলে লাভ নেতার। এখানে শুধুই লাভ, লোকসানের কোনো জায়গা নেই। তাই সবাই সুযোগ নিতে চাইছে। কথায় আছে হলে ভালো, না হলে আরো ভালো। কিন্তু না হলে কিভাবে ভালো হয়, এখনো তার ব্যাখ্যা আমি কারও কাছ থেকে পাই নি। রাজনীতিতে না হলে একটা ভালো আছে, কোন দায় নেই। ছোটবেলায় খেলার মাঠে শুনেছি জিতলেও বাড়ি ভাত, হারলেও বাড়ি ভাত। ভাত বাড়িতে থাকবেই। মানে জিতলেও কেউ ডেকে খাওয়াবে না। হারলেও কেউ খাওয়া আটকাবে না। ছোটদের উৎসাহ দেবার জন্য এ ধরনের প্রবচন বড়রা দিয়ে থাকে। কিন্তু বড়দের খেলায় ছোটরা কি এই ধরনের উৎসাহ দেয় ? রাজনীতির খেলায় শুধু নেতারাই কর্মীদের উৎসাহ দেয়। কর্মীদের উৎসাহ দিয়ে নেতা জেতে। তাই নেতা শুধু উৎসাহ দিয়েই খালাস। প্রাথমিক গল্প শেষ। বুঝলে ভালো, না বুঝলে আরো ভালো। এরও কোনো ব্যাখ্যা নেই।

আরও পড়ুন :“যখন আমার গোফ ওঠেনি , তখন আমার নামে মামলা করা হয়েছিল”

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে জোট রাজনীতি নিয়ে উত্তাল দেশ। জোট মানে সবে মিলে করি কাজ-এর মতো। সবে মিলে এতদিন এনডিএ আর ইউপিএ হার-জিতের লড়াই করেছে। কখনো কেউ জিতেছে। আবার কখনো কেউ হেরেছে। কিন্তু এবারের লোকসভা নির্বাচনে না এনডিএ না ইউপিএ। কারণ, এনডিএ মানে সুযোগ নেবে মোদী। আর ইউপিএ মানে সুযোগ নেবে গান্ধী। তাহলে বাকিদের সুযোগের জায়গা কোথায়? সুযোগ সবাই নিতে চাই বিনা লোকসানের লাভের ব্যবসায়। সুযোগ নিতে একে অপরকে উৎসাহ দিতে ব্যস্ত ছোট বড় মাঝারি সব নেতাই। সবাই মেনেই নিয়েছে হারলেও বাড়ি ভাত জিতলেও বাড়ি ভাত। মানে ভাতের অভাব কোথাও নেই। কিন্তু জটিল অঙ্ক আছে। এতো জটিল অঙ্ক যে এ বছরের মে মাস অবধি সময় লাগবে অঙ্কের উত্তর মেলাতে।
আমি উত্তর মেলাতে যাচ্ছি না, শুধু অঙ্কটা বুঝতে চাইছি। মমতার ব্রিগেড কোন দলের? ব্রিগেডের উদেশ্য কি ? ভবিষ্যত কি? কার স্বার্থে ব্রিগেড ? জনগণের? নাকি ব্যক্তিবিশেষের ? এই ব্রিগেড দিল্লী যাবার? নাকি শীতকালীন কলকাতা ভ্রমণের? প্রশ্নের উত্তর আমাকে কেন, কাউকেই একা মেলাতে হবে না। মেলাবে ভারতের বুদ্ধিমান ভোটার।

আরও পড়ুন : ‘কম্পিউটারে নজরদারি’ জনস্বার্থ মামলায় সরকারকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

তবে ১৯ শে জানুয়ারী পশ্চিমবঙ্গের কিছু মানুষ কাজ কামাই করে ব্রিগেডে কিছু বি-গ্রেড পোদানমন্তী দেখতে পাবেন। একই মঞ্চে একসাথে এতগুলো পোদানমন্তী আগে বাংলার মানুষ কখনও দেখেনি। এমনকি জ্যোতিবসুর ১৯৭৭ সালের ব্রিগেডের সভায়ও না। কিন্তু ১৯৭৭ সালে বিগ্রেডে জ্যোতি বাবু কেমন সভা করেছিলেন তার কোনো ছবি বা তথ্য বাঙালি হবু প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কোথাও পাই নি। তবে এবারের ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ছবি যত্ন করে তুলে রাখবো আমি, তুলে রাখবে গুগল, ফেইসবুক, টুইটার, এমনকি গিনিসবুকও

210Shares