সুপ্রিম কোর্টে জোর ধাক্কা, লোকসভা ভোটের আগে বেকায়দায় মায়াবতী

mayawati-মায়াবতী

সবসংবাদ: ক্ষমতায় থাকাকালীন উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা বহুজন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো কুমারী মায়াবতী তার দলের প্রতীক হাতি ও নিজের মূর্তি তৈরি করেন সরকারি টাকায়। যে টাকা সাধারণ মানুষ সরকারকে কর হিসেবে দিয়েছিল। এক আইনজীবী এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে কোন নেতা তাদের দলের এবং নিজের মূর্তি তৈরির জন্য জনসাধারণের দেওয়া টাকা খরচ করতে পারে না বা উচিত ও নয়। এই বিষয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট তৎকালীন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কুমারী মায়াবতীকে জনগণের অর্থ ফেরৎ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রমাণ কর নির্দোষ, এত ভয় কেন?

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গৈগের বেঞ্চ আজ শুনানি চলাকালীন বলেন, সরকারি টাকা ব্যয় করে কোন রাজনৈতিক দলের প্রতীক কিংবা রাজনৈতিক নেতার মূর্তি বানানো যায় না। কুমারী মায়াবতীকে মূর্তি বানাতে যে অর্থ রাজকোষ থেকে খরচ করেছে। তা আবার রাজকোষে ফেরত দিতে হবে। আগামী ২রা এপ্রিল বিস্তারিত শুনানি হবে বলে আদালত জানিয়ে দেন।

২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কুমারী মায়াবতী। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন লক্ষ্নৌ আর নয়ডাতে দুটি পার্ক তৈরি করেন। সেই পার্কে মায়াবতীর তার নিজের মূর্তি এবং সংবিধানের রচয়িতা বি. আর. আম্বেদকরের মূর্তি সহ বহু জন সমাজ পার্টির প্রতীক হাতির মূর্তি তৈরি করেন। সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কাশীরামের মূর্তিও রাখেন এই পার্কে। এই মূর্তি বানানোর সম্পূর্ণ খরচ তিনি সরকারি অর্থ থেকে করেন।

১১১ কোটি তছরুপ

এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৪০০ কোটি টাকারও বেশি। ৩০টি পাথরের হাতির মূর্তি এবং ২২ টি ব্রোঞ্জের চিত্রমূর্তি এই পার্কে বানানো হয়। এতে মোট ৬৮৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ১১১ কোটি সরকারি টাকা তছরুপ হয়েছে বলে মামলা দায়ের করে।

লোকসভার আগে ধাক্কা

লোকসভা নির্বাচনের আগে যখন মায়াবতী উত্তরপ্রদেশে একসময়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সমাজবাদী পার্টির সাথে জোট করে সর্বোচ্চ আসন জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। ঠিক সেইসময় মহামান্য সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় মায়াবতী সহ তার জোটকে জোর ধাক্কা দেবে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সরকারি টাকা অর্থাৎ জনগণের করের টাকা এইভাবে নষ্ট করা বিরোধীদের কাছে একটি অস্ত্র হিসাবে যাবে। মায়াবতীকে নির্বাচনের আগে বিপদে পড়তে হতে পারে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

2247Shares