চা: ব্যাপক চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের সমতলেও চাষের দারুণ সম্ভাবনা – sabsangbad.com

বাংলাদেশে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় উৎপাদন যেমন বাড়ানো হয়েছে তেমনি রপ্তানিও কমানো হয়েছে অনেকখানি। কিন্তু এরপরও প্রতিবছর চাহিদার তুলনায় ১ থেকে ২ কোটি কেজি চায়ের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

এই ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি স্বাভাবিক গতিতে ফেরাতে ২০২৫ সাল নাগাদ চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ কোটি কেজি নির্ধারণ করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ও চাহিদা মেটাতে পাহাড়ি উঁচু জমির পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সমতল জমিতেও চা চাষ হচ্ছে যা চায়ের মোট চাহিদার ১০% এর বেশি পূরণ করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। তবে চায়ের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় পঞ্চগড় জেলায় ১৯৯৬ সালে প্রথম চা চাষের বিষয়ে গবেষণা শুরু হয়। এরপর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয় ২০০০ সাল থেকে। তার ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট এবং ২০১৪ সালে দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয়। লালমনিরহাটের বাসিন্দা শাহানারা সোমা চাকরি সূত্রে চট্টগ্রামে থাকাকালে তিনি পেয়েছিলেন সেখানকার চায়ের স্বাদ।

তারপর পঞ্চগড়ের দেখাদেখি এবং লালমনিরহাটের সীমান্তের ওই প্রান্তে ভারতের অংশে চা চাষ হতে দেখে, ২০০৬ সালে তিনিও নিজ জেলার সমতল ভূমিতে চায়ের আবাদ শুরু করেন। শুরুতে মাত্র তিন একর জমিতে চাষাবাদ শুরু করলেও এখন তার অনুপ্রেরণায় লালমনিরহাটের ১৫০ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে বলে তিনি জানান। মিসেস সোমা জানান, “পাশের ভারতে যদি চা চাষ হয় তাহলে আমাদের মাটিতে কেন হবে না? দেশ হয়তো আলাদা, কিন্তু মাটি আবহাওয়া তো একই, এজন্য আমি চেষ্টা শুরু করি। এলাকার মাটি নিয়ে চা গবেষণা ইন্সটিটিউটে পাঠাই। সেখান থেকেও বলা হয় যে মাটি চায়ের জন্য উপযুক্ত। তারপর থেকে ফলন করে যাচ্ছি।” বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হল প্রচুর বৃষ্টিপাত ও উঁচু ভূমি। যেন বৃষ্টি হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়ে যায়। এ কারণে এতোদিন চা চাষের জন্য পাহাড়ি উঁচু ভূমিই বেছে নেয়া হতো। ব্রিটিশ ভারতের বাংলাদেশ অংশে প্রথম বাণিজ্যিক-ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয় সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানে ১৮৫৪ সালে। সেই সময় থেকে চায়ের রপ্তানি হতো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।